বাঘায় ৩৫ টি গৃহহীন পরিবার পেল স্বপ্নের ঠিকানা

0
29

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
মুজিববর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না উল্লেখ করে আজ দেশ ব্যাপী (২০-জুন) সকাল ১১ টায় গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্য শেষে তিনি আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায় দেশের ভূমি ও গৃহহীন ৫৩ হাজার ৮ শ পরিবারের হাতে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্মানকৃত ঘরের জমির কাগজ-পত্র ও চাবি হস্তান্তর এর মাধ্যমে এই কর্মসুচীর শুভ উদ্বোধন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় এ মাসে ৫৩ হাজার ৮ শ এবং আগামী মাসে আরও ১ লাখ পরিবার ঘর পাবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের ১০০ বছর পূর্তি উপলে মুজিব শতবর্ষ পালন করছে সরকার। বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পর্যায় ক্রমে এ কর্মসুচী বাস্তবায়ন হবে। সূত্র জানায়, উপকার ভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবে। যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)। সেই সাথে পাবে দুই ক বিশিষ্ট একটি রঙ্গিন টিনের পাকা বাড়ী। আর এসব পাকা ঘর নির্মানে খরচ হচ্ছে ১ (এক) লাখ ৯০ হাজার টাকা। সরকারের নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে এসব ঘর। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট থাকছে । পাশা-পাশি থাকছে টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগ ।

তারি ধারাবাহিকতায় আজ
বাঘা উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে একই সময়ে উপজেলার ভূমিহীন ৩৫ টি পরিবারের মাঝে বাড়ির কাগজ হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড: লায়েব উদ্দিন লাভলু , উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মন্টু ও অধ্যক্ষ নছিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদ সাদিক কবির, আ’লীগ নেতা মাসুদ রানা তিলু, সকল দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা বৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, ইমাম ও সমাজের সুধী মহল।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় নিজের বাড়ি পেয়ে যাওয়া ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষগুলো এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। দেশজুড়ে বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির আওতায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলা প্রথম বারে ভূমিহীন-গৃহহীন ১৬ টি পরিবারকেঘর দেয়া হয়। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে অত্র উপজেলার আরো ৩৫ টি পরিবার ঘর পাচ্ছে।

বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলের লাইলী বেগম বলেন, “কোনোদিন ভাবিনি আমার নিজের একটি পাকা ঘর হবে। পরিবার নিয়ে এক সাথে থাকবো। সত্যিই প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আপা আমাদের মতো গরিবদের নিয়া ভাবেন।”নতুন একটি ঠিকানা পেয়ে এমনটি প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন তিনি। দুই বছর পূর্বে পদ্মার ভাঙ্গনে তাঁর বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাই। সেই থেকে তিনি কখনো মেয়ে-জামাই,আবার কখনো-কখনো অন্যার বাড়ীতে কাজ করে জীবিকা নিরবরাহ করতেন। শুধু লাইলী বেগম নন, তার মতো এখন ঘর ও জমি পেয়ে অনেকেই স্বপ্নে বিভোর ।