রাজশাহীতে শীতে সবজি দাম কমলেও বড়েছে চাল ও তেলের দাম

0
95

পান্না, রাজশাহী ব্যুরো :
রাজশাহীর বাজারে প্রচুর পরিমাণে আমদানি বাড়ায় কেজিতে সকল সবজি এখন ৫ থেকে ৩০ টাকায় মিলছে। তবে দাম বেড়েছে চাল ও সয়াবিন তেলের। বাজারে নতুন আলু আসায় কমেছে পুরোতন আলুর দাম। নতুন পেয়াঁজের আমদানি বেশি হওয়া কমেছে সকল পেঁয়াজের দাম। আর স্থিতিশীল রয়েছে মাছ, মাংস ও মুদিসামগ্রীর দাম।

সবজির বাজারে বেগুন, লাউ, মুলা, বাঁধাকপি ও ফুলকপি ও শীমের সরবরাহ বেশি। এ কারণে সবজির বাজারে বেশ সস্তা দামে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) রাজশাহীর সাহেববাজারের মাস্টাপাড়া কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সকল সবজি ৫ থেকে ২০ সর্বচ্চ ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন ২০ টাকা, মুলা ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপি ফুলকপি ১৫ থেকে ২০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, শিম ২৫ টাকা, পটল ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়,মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকায়, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, লালশাক ১৫, পালন শাক ১৫, শিম ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গাজর ৫০ টাকা, কচুর

লতি ৪০ টাকা, কলা প্রতি হালি ২০ টাকা, বরবটি ৩০ টাকা, লাউ ২০ থেকে ৪০ টাকা, জলপাই ৪০ টাকা, ধনেপাতা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঝিঙা ৪০ টাকায়, ধুন্দল ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বেশকিছু দিন ধরে নতুন আলু আসায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে আলু।
সাহেববাজার মাষ্টারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলী জানান, নতুন আলুর সরবরাহ অনেক বেড়েছে তাই এখন আলুর দাম কমবে। কাঁচা মসলার বাজার গত সপ্তাহের মতই রয়েছে। আলুর সাথে নতুন পেঁয়াজ আসায় দাম কমেছে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। মসলার বাজারে প্রতি কেজি রসুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আদা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, মসুর ডাল বিক্রি মোটা ৭০ দেশি ১১০ টাকা, চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে মুরগির ও ডিমের দামও কমেছে। মুরগি খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ১০ টাকা ও ডিম হালি প্রতি চার টাকা কমেছে। সাদা ডিম ২৭ এবং লাল ৩৩ থেকে ৩৪ হালিতে বিক্রি হচ্ছে। স্থিতিশীল রয়েছে মাংস ও মুদি সামগ্রীর দাম।

অন্যদিকে মুদি বাজারে শুধু খোলা তেলের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি পাঁচ থেকে ছয় টাকা।
আর অপরিবর্তিত রয়েছে, ডাল ও মাংসের বাজার। আর সয়াবিন তেল খোলা ও লিটারে দাম বেড়েছে। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। আর প্যাকেট ও বোতলজাত তেল ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম বেড়েছে কেজিতে তিন থেকে চার টাকা। আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, পায়জাম ৬০-৬৩ টাকা, মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা, নাজির ৬০ টাকা। জিরাসাল ৫৪, কাটারিভোগ সিদ্ধ ৭৫ টাকা, কাজল লতা ৬০ টাকা, মোটা আতপ ৫৫-৫৮ পোলা-আতপ ও কালোজিরা চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে।
কেজি প্রতি গরুর মাংস ৫৪০ টাকা, খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা, ছাগলের মাংস ৬০০ টাকা, বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, সোনালী মুরগি ১৭০ টাকায় ও দেশি মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে কিছু কার্প ও দেশি জাতের মাছের দাম কমেছে। সাহেববাজারে ভোলা মাছ ভান্ডারের ব্যবসায়ী জানান, গত সপ্তাহের মতই আছে মাছের বাজার।
রুই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, কাতল ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৯০০ টাকা, চিতল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, সিলভার ৮০ থেকে ২১০ টাকা, তেলাপিয়া ১০০ টাকা, চাষের পাঙ্গাশ ১২০ টাকা, নদীর পাঙ্গাশ এক হাজার টাকা, শোল ২৫০ টাকা, বাঘাইড় ৭৫০ থেকে ৯৬০ টাকা, ইলিশ ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মলা ৩০০ খেকে ৩৮০, পুঁটি ১৮০ থেকে ২০০, শিং ৪০০ টাকি ২৬০, টেংরা ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।