রাজশাহীর রেলের গেষ্ট হাউজের কেয়ার টেকার চাকরি দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
41

পান্না, রাজশাহী ব্যুরো :
পশ্চিম রেলের রাজশাহী অফিসার্স রেস্ট হাউজের কেয়ার টেকার ময়নুল হোসেনর নিজ এলাকা নিলফামারী জেলায়। তিনি চাকরির সুবাদে থাকে রাজশাহীতে। তিনি মাষ্টারপাড়ায় ভাঙ্গা ব্রীজের সামনে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা বাড়ীর নির্মান কাজ চলমান। এরকমই অভিযোগ করেছেন পশ্চিম রেলেরই কিছু কর্মচারিরা।

জানা গেছে, পশ্চিম রেলের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার পার্সোনাল লোক পরিচয়ে নিয়োগ দিয়ে তিনি নিয়োগ প্রতাড়নায় হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। এছাড়াও সেই শক্তি খাটিয়ে অপন্দের হওয়ায় মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে বিদায় করেছেন সামিউল ও তপু নামে দুই কর্মচারিকে অপরদিকে একই জায়গায় কর্মরত অপর কর্মচারি শামীম রেস্ট হাউজের একটি রুমে নারী নিয়ে ফুর্তি করার সময় হাতে নাতে ধরা পড়লেও অলৌকিক ভাবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন ময়নুলের আস্থাভাজন হওয়ার কারনেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বহিস্কƒত কর্মচারি তপু ও সামিউল বলেন, রেস্ট হাউজের ঘর ২ হাজার টাকা করে ভাড়া দেয়া, রেস্ট হাউসে নারী নিয়ে ফুর্তি ও মাদক সেবন নিয়ে প্রতিবাদ করলে ময়নুল আমাদেরকে বলে, স্যারকে বলে তোদের চাকরি খেয়ে নেব । এর কিছুদিন পর ড্রাইভার তপু ছুটিতে বাড়িতে থাকাকালীন রেস্ট হাউজে ময়নুলের থেকে মাসিক ২ হাজার টাকায় ভাড়া নেয়া তপুর ঘরের তালা ভেঙে সেখানে গাঁজা রেখে নতুন তালা লাগিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানায় ময়নুল এবং কর্তৃপক্ষ সেই গাঁজা পেয়ে আমাদেরকে রেস্ট হাউজ থেকে বহিস্কার করেন। ময়নুল উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার মনোরঞ্জনে সার্বিক সহযোগিতা করায় তার কোন দোষ কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে না। সে যা বলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও তাই বিশ্বাস করে। তাছাড়া চাকরি পাইয়ে দেবার জন্য বড় স্যারের ঘুষের টাকাও ওর মাধ্যমেই আসে।


এ দিকে নীলফামারীর নিজ এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে রেলে চাকরি দেয়ার নাম করে তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পার্বতিপুরের পাওয়ার হাউজ কলোনীর আকবর আলীর স্ত্রী জেসমিন অভিযোগ করে বলেন, ময়নুল চারবছর আগে চাকরি দেয়ার নাম করে অগ্রিম আমার কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেয়। শুধু আমার কাছেই নয়, আমার পরিচিত আরো বেশ কয়েকজনের কাছেই বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়েছিল। টাকা দেয়ার ২ বছর অতিবাহিত হলেও চাকরি না পাওয়ায় তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে সে নানা রকমের টালবাহানা শুরু করে। শেষে তার অফিস অর্থাৎ রেলের রাজশাহী রেস্ট হাউজে তাকে আটক করলে সে আমাকে তার নামের চার লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করে। কিন্তু চেক পাওয়া এক বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আমি টাকা পাইনি। শুনেছি পশ্চিম রেলের তৎকালিক জিএম শহীদুল ইসলামের নির্দেশে এরকম বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি হিসেবে তাকে রেস্ট হাউজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জিএম স্যার এখান থেকে চলে যাওয়ার পর সে আবারও রেস্ট হাউজে আগের মতই চাকরি করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ময়নুল বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা, এজিএম আমিনুল স্যার সহ অধিকাংশ স্যাররা আমার কাজে খুশী হয়ে আমাকে ভালোবাসেন, তাই যাদের চোখ টাটায় তারা এসব মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছে। তপুর ঘরের তালা ভাঙ্গা প্রশ্নের উত্তরে সে বলে স্যারের নির্দেশেই তার ঘরের তালা ভাঙ্গা হয়েছিল।

জানতে চাইলে পশ্চিম রেলের এজিএম আমিনুল ইসলাম বলেন, মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দেয়ার এখতিয়ার নাই আমার, দিতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে ; তবে আপনারা যে বিষয়ে এসেছেন, সে বিষয়ের কোন লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি, লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে । তবে ময়নুল যে চাকরি দেয়ার নামে টাকা নিয়েছে সে ঘটনা আমি লোকমুখে শুনেছি ।