রাজশাহীর হাড়ুপুর স:প্রা:বি: এর সহ: শিক্ষিকাকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে লিগ্যাল এ্যাসিসটেন্স ফর ভালনারেবল সোসাইটি (লিভস) এর প্রতিবাদ, নিন্দা প্রকাশ ও সুষ্ঠ বিচার দাবী

0
10

 

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ঘটনার ফলোআপে জানা যায়, গত ২৪/০৮/২২ খ্রি: তারিখে, জান্নাতুল ফেরদৌস, সহ: শিক্ষিকা, হাড়ুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পবা, রাজশাহী-কে ফেইসবুক স্টোরিতে প্রধান শিক্ষকের ছবি পোস্ট হওয়া, না হওয়ার মত তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে, কান ধরে উঠবস করিয়ে হেনস্তা, অপমান, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌসী, প্রধান শিক্ষিকার স্বামী মো: শাহনেওয়াজ খান, (সিনিয়র শিক্ষক, মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী) ও মো: আব্দুল আজিজ (অব: শিক্ষক, সাবেক সভাপতি, স্কুল ম্যানেজিং কমিটি) । সেই সাথে প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসী ও তাঁর স্বামী মো: শাহনেওয়াজ খানের বিরুদ্ধে সহ: শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে উক্তরুপ অপেশাদার ও অসদাচরণের জন্য, সরকারি চাকুরী বিধিমালা লঙ্ঘন করে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে । ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, জান্নাতুল ফেরদৌসকে ফেইসবুক স্টোরিতে ছবি দেওয়ার বিষয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়া হলে, তিনি অত্যন্ত দুঃখপ্রকাশ করে ভুলবশত হতে পারে জানিয়ে, প্রধান শিক্ষকের নিকট বার বার ক্ষমা চেয়েছিলেন । এ সত্বেও প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসী নিজ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে, উপরোল্লিখিত উপস্থিত বহিরাগত দুইজন ব্যক্তিকে দিয়ে সহ: শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসকে অন্যান্য সকল সহ: শিক্ষকের সম্মুখে, আসামীর ন্যায় দাঁড় করিয়ে রেখে অবৈধ গ্রাম্য বিচার সালিশি পন্থায় শারীরিক শাস্তি প্রদান করান । এ সময় প্রধান শিক্ষকের স্বামী মো: শাহনেওয়াজ খান জান্নাতুল ফেরদৌসকে চৌদ্দ বছরের জন্য জেল-হাজত খাটানোরও ভয় দেখান এবং মো: আব্দুল আজিজ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে চড় থাপ্পড় মারতে উদ্ধত হয়ে, তুই তুকারীর মত তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যপূর্ন ভাষা ব্যবহার করে জোরপূর্বক কান ধরে উঠবস করায়, প্রধান শিক্ষকের পা ধরে মাফ চাইতে বলে, যার স্থিরচিত্র ও অডিও রেকর্ডিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, স্মরণ রাখা উচিত ভাষাই হচ্ছে শিক্ষক সংস্কৃতির মাপকাঠি । একই সাথে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে অপর দুইজন সহ: শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে এবং আজ অবধি মোবাইল ফোনটি ভিকটিম জান্নাতুল ফেরদৌসকে ফেরত দেওয়া হয়নি । এমনকি উক্ত ঘটনার পর, সহ: শিক্ষক তৌহিদুল আলম খান জান্নাতুল ফেরদৌসকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও বদলী করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে!

লীগ্যাল এসিসটেন্স ফর ভালনারেবল সোসাইটি (লিভস) মনে করছে, প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসী অবৈধ গ্রাম্য সালিশি পন্থায়, ভিকটিম জান্নাতুল ফেরদৌসকে বহিরাগতদের উপস্থিতিতে শাস্তি প্রদান এবং অপমান-অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করে, সরকারি কর্মচারী আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী কাজ করেছেন । প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অসদাচরণের দায়ে বিভাগীয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন, যা প্রচলিত ফৌজদারি ও দেওয়ানী আইনেও দন্ডনীয় অপরাধ । উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসীর এহেন অন্যায় আচরণ সংবিধানে’র ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান অমান্য এবং মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন । যেহেতু, জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত ‘মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র’-এ স্বাধীনভাবে কাজ-চাকুরি করার ও কর্মক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ লাভ করার অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে এবং কাউকে এমন কোন কাজ বা ত্রুটির জন্য দন্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না মর্মেও উল্লেখ করা হয়েছে ।

লিগ্যাল এ্যাসিসটেন্স ফর ভালনারেবল সোসাইটি (লিভস) উক্ত ঘটনার প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও, ভিকটিম জান্নাতুল ফেরদৌস অদ্যাবধি আইনী প্রতিকার বা সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন। লিভস’র সভাপতি অঞ্জন সরকার বিষয়টি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কর্মরত শিক্ষকদের দায়িত্বহীন অপেশাদার আচরণ আমাদের সমাজের জন্য ভবিষ্যৎ দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে । তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, সকল সরকারি কর্মচারী-শিক্ষকগণ সরকারি কর্মচারী আইন, শৃঙ্খলা ও বিধিমালা অনুযায়ী পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহনশীল আচরণ করবেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতার সাথে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম হবেন । সবশেষে, তিনি উক্ত ঘটনায় দায়ী প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসী ও বহিরাগত মো: শাহনেওয়াজ খান এবং মো: আব্দুল আজিজসহ সকলের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুততার সহিত বিভাগীয়, ফৌজদারী ও দেওয়ানী আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনসমূহকে আইনী সচেতনতা তৈরিতে যথার্থ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ।