রাজশাহীর দুর্গাপুর নান্দিগ্রাম ডি.এস আলিম মাদ্রাসা যেন ভূতের বাড়ি

0
21
বিশেষ প্রতিবেদক:
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নান্দিগ্রাম দারুস সালাম আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক আছে শিক্ষার্থী নাই। এই মাদ্রাসায় ২২ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়মিত বেতন-ভাতা উঠালেও শ্রেণীকক্ষে নিয়মিত পাঠদান করাতে দেখা যায়না কাউকেই। শ্রেণীকক্ষ গুলোতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। প্রথম দেখাতেই মনে হবে এ যেন ভূতের বাড়ি। পাঠদান বন্ধ, শিক্ষক-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বছর বছর নিয়োগ বাণিজ্য সহ নানা অভিযোগ উঠেছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবক মহলের।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত (২৮ জুলাই) বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাদ্রাসা খোলা থাকলেও শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শুন্য। মাদ্রাসার অফিস কক্ষে দু’চারজন শিক্ষক ও কর্মচারীর দেখা মিললেও তারা চেয়ারে পা তুলে আরামে ঘুমিয়ে সময় পার করছেন। আর বেশিরভাগ শিক্ষক মাদ্রাসায় না এসে পারিবারিক কাজে সময় পার করেন। এছাড়াও মাঝে মধ্যেও দু’একজন শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় আসলেও নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় মাদ্রাসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এনিয়ে অভিভাবকদের মাঝে বইছে যেমন চাপা ক্ষোভ। অভিভাবকরা তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন অভিভাবক বলেন, মাদ্রাসায় কোনও শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়মিত অফিস করেন না। মাদ্রাসাটিতে ইবতেদায়ীতে একজনও শিক্ষার্থী নাই। কিন্তু নামসর্বস্ব এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রতি মাসে নিয়মিত সরকারি বেতনভাতা উত্তোলন করছে। বিষয়টি খুব দুঃখ জনক।
মাদ্রাসার সহকারী সুপার বলেন, আগে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। ২০০৯ সালের পর শিক্ষকদের মাঝে ঝামেলা হওয়ায় আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীরা এখানে লেখাপড়া করতে আসছেনা। দুরের কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি করে এখান থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়ে কোনোমতে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রেখেছি।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুছা মিয়ার ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনে ফোন করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পারিবারিক কাজে একটু রাজশাহী কোর্টে আছি। এ ব্যাপারে এখন কোনও মন্তব্য করতে পারবোনা। পরে আপনাদের সাথে কথা হবে বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তাঁর। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মাদ্রাসার নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেও অধ্যক্ষ আমাকে সভাপতি হিসেবে মানেন না। তাই এ বিষয় নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছিনা। তবে এলাকার লোক হিসেবে আমি যতদুর জানি ও শুনি, মাদ্রাসার অবস্থা ভালো নয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল হক জানান, মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী নাই এই রকম আমাদের জানা নেই। ছাত্র ছাত্রী কম এটা শুনেছি। শীঘ্রই মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করে তদন্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আগে কখনো পাইনি। যেহেতু অভিযোগ পেলাম সেহেতু শীঘ্রই মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।