0
11

১৫ জুন থেকে শুরু হচ্ছে  ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিনিধি:
‘জনশুমারিতে তথ্য দিন, পরিকল্পিত উন্নয়নে অংশ নিন’ প্রতিপাদ্যে শুরু হচ্ছে ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ১০ বছর পর আজ ১৫ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ষষ্ঠ ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’। সপ্তাহব্যাপী ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম শেষ হবে আগামী ২১ জুন । বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যূরো (বিবিএস) ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।
শুমারি শুরুর আগে ১৪ জুন রাত ১২টা’কে ‘শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট/সময়’ হিসেবে ধার্য করা হয়। স¤প্রতি এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে এসব কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনশুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হতে যাচ্ছে। একটি ওয়েবভিত্তিক ইনটিগ্রেটেড সেনসাস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইসিএমএস) প্রস্তুতসহ জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমে (জিআইএস) গণনা এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের কন্ট্রোল ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে।

‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’-এর বাঘা উপজেলা সমন্বয়কারি মলয় রায় বলেন, জনশুমারিতে প্রধান ৩৫টি প্রশ্ন থাকবে, এর পাশাপাশি আরও ১০টি তথ্য নেওয়া হবে। ফলে জনশুমারিতে মোট ৪৫টি তথ্য নেওয়া হবে। জনশুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে শুমারি কর্মী হিসেবে উপজেলায় ৪৯৬জন গণনাকারী, ৮০জন সুপারভাইজার, ৬জন টিটি সুপারভাইজার.৬জন জোনাল অফিসার ও ১জন ইউসিসি শুমারি সমন্বকারি এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবেন। সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ সফল ও সার্থক হওয়ার প্রত্যাশা করে তিনি বলেন,জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে জনশুমারি ও গৃহগণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল নাগরিকের দায়িত্ব।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ হতে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়নসহ অন্যান্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পরিবীক্ষণে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে। তাই শুমারিকর্মীগণকে সঠিক তথ্যপ্রদান ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সকল প্রকার সহযোগিতা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহŸান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।

ডিজিটাল শুমারিতে প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে ৩৫ ধরনের তথ্যসহ আরও ১০টি সহায়ক তথ্য নেওয়া হবে। এতে করে একজন নাগরিকের মোট ৪৫ ধরনের তথ্য নেওয়া হবে।
প্রশ্নপত্রে যা যা থাকবে ঃ
খানা মডিউলে থাকবে- খানার (পরিবার) ক্রমিক নম্বর, খানার ঠিকানা। বসবাসের ধরনের মধ্যে থাকবে আপনার অন্য কোথাও বসতঘর আছে কি না? খানার প্রকার, খানার প্রধান বসতঘরের মেঝের উপকরণ, খানার প্রধান বসতঘরের দেয়ালের উপকরণ, খানার প্রধান বসতঘরের ছাদের ছাউনির উপকরণ বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে।
এছাড়াও খানার বসাগৃহের সংখ্যা, ভবনের মোট তলার সংখ্যা, বাসগৃহের মালিকানা, খানার খাবার পানির প্রধান উৎস, টয়লেট সুবিধা, টয়লেট ব্যবহারের ধরণ, সাবান ও পানিসহ হাতধোয়ার পৃথক ব্যবস্থ্যা (টয়লেট ব্যতীত) কী? খানায় বিদ্যুৎ সুবিধার প্রধান উৎস, রান্নার জ্বালানির প্রধান উৎস, খানায় কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য আছে কি? খানায় কোনো বিদেশি নাগরিক আছে কি? খানায় কি ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়, গত দুই বছরে খানায় কোনো বৈদেশিক রেমিট্যান্স (অর্থ/পণ্য) গ্রহণ করা হয়েছে কি?- এসব তথ্যও নেওয়া হবে।
শুমারির রাতে খানায় অবস্থানকারী সদস্য (আত্মীয়/অনাত্মীয়সহ) সংখ্যা, শুমারির রাতে খানায় অনুপস্থিত (ভ্রমণরত/ডিউটিরত) সদস্য সংখ্যা, খানায় অন্তর্ভুক্ত মোট সদস্য সংখ্যা, খানায় কতজন বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে থাকেন, গত দুই বছরে খানার কতজন সদস্য বিদেশ হতে স্থায়ভাবে ফেরত এসেছেন?- বিষয়েও প্রশ্ন থাকবে।
ব্যক্তি মডিউল ঃ
ব্যক্তি মডিউলে থাকবে সদস্যদের ক্রমিক নম্বর, খানার সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, খানা প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, প্রতিবন্ধী হলে তার ধরণ, পড়তে লিখতে পারেন কি, বর্তমানে শিক্ষার্থী কি? সর্বোচ্চ শ্রেণি পাশ, পাশের ক্ষেত্র, কাজের মর্যাদা, কর্মরত হলে কাজের ধরন, কর্মরত হলে কাজের ক্ষেত্র, বর্তমানে কোনো প্রশিক্ষণে নিয়োজিত আছেন কি? নিজস্ব ব্যবহারের মোবাইল ফোন আছে কি? মাসে একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন কি? এসব তথ্যও নেয়া হবে।
ব্যাংক/বিমা/ডাকঘর/সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট আছে কি? মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, রকেট ও নগদ অ্যাকাউন্ট আছে কি? ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোড যদি হয়ে থাকে, জাতীয়তা কি? বাংলাদেশি হলে নিজ জেলা, বিদেশি হলে দেশের নাম লিখতে হবে।