রামেক হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার বেশি করোনা রোগী

0
7

পান্না, রাজশাহী ব্যুরো :
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিটে আরও একটি ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তার পরও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীর চাপ রয়েছে। বুধবার ধারণ ক্ষমতার ১৪ জন বেশী রোগি এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের রাখা হয়েছে মেঝেতে।
তবে রাজশাহী জেলায় শনাক্তের হার আগের দিনের চেয়ে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়েছে। তাছাড়া মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় কোভিড ইউনিটে মারা গেছেন আরও আটজন।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, সোমবার পর্যন্ত হাসপাতালে ১৩৫টি শয্যা ছিল। রোগীর চাপ দেখে মঙ্গলবার আরেকটি ওয়ার্ড চালু করা হয়। এখন ১৮টি আইসিইউসহ করোনা ইউনিটে মোট শয্যা ২৬৪টি। সেখানে রোগী ভর্তি করা হয়েছে ২৭৭ জন। অন্য রোগীরা মেঝেতে আছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগের দিন ভর্তি করা হয় ৩৩ জনকে। তাদের ১৭ জন রাজশাহীর আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়জন। অন্যরা নওগাঁ, নাটোর, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার। একই সময় ১৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে জানান তিনি।

উপ-পরিচালক বলেন, বুধবার সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৭৭ জন। তাদের মধ্যে রাজশাহীর ১৩৯ জন আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০২ জন। তাছাড়া নওগাঁর ১৩, নাটোরের ১৭, পাবনার ৩ ও কুষ্টিয়ার ৩ জন রয়েছেন। ২৭৭ জনের মধ্যে ১৭ জনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

রাজশাহী জেলায় শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ও সন্দেভাজনদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সাইফুল আরও ফেরদৌস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড ইউনিটে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তদের মধ্যে রাজশাহীর পাঁচজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন। তাদের চারজন মারা গেছেন করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর। অন্যরা মারা গেছেন পরীক্ষার আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। তাদের শ্বাসকষ্টসহ করোনাভাইরাসের সব ধরনের উপসর্গ ছিল। আইসিইউতে তিনজন, ৩৯, ২৯ ও ২২ নং ওয়ার্ডে একজন করে এবং ২৫ নং ওয়ার্ডে দুইজন মারা যান।

এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুটি পিসিআর ল্যাবে মঙ্গলবার রাজশাহীর ৪৯০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা করে ১৯৯ পজেটিভ পাওয়া গেছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তাতে দেখা যাচ্ছে, আগের দিনের চেয়ে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ পয়েন্ট কমে মঙ্গলবার রাজশাহী জেলায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ। সোমবার ছিল ৪৫ দশমিক ০৭ শতাংশ, রোববার ৪১ দশমিক ২৯ শতাংশ, শনিবার ৫০ দশমিক ২৭ শতাংশ, শুক্রবার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, বৃহস্পতিবার ৪২ দশমিক ২৮ শতাংশ।

উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, মঙ্গলবার দুই ল্যাবে রাজশাহীর ৪৯০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৯৯ জনের পজিটিভ আসে, যা ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ। তাছাড়া নওগাঁর ৭১ জনের পরীক্ষায় ২১ জনের আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুইজনের পরীক্ষায় একজনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে