আড়ানী পৌরসভায় আ’লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ : আহত ১৩

0
761

নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় আড়ানী পৌরসভ্ ানির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত বুধবার (১৩-জানুয়ারি) রাতে আ’লীগের দলীয় এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঐতিহাসিক তাল তলায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাটাখালি পৌর সভার নবাগত মেয়র আব্বাস আলীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বলে উল্লেখ করেন স্থানীয় লোকজন।
এ ঘটনায় প্রায় ৬ রাউন্ড পিস্তলের ফাঁকা গুলি এবং ৮-১০টি ককটেল বিস্ফরণ হয় বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আহত হন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীয় নৌকা প্রথীকের প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদ এর সমর্থক ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী বর্তমান মেয়র মুক্তার আলীর সমর্থকসহ প্রায় ১৩ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারা শাহিন রেজা ও চারঘাট-বাঘা সার্কেলের সিনিয়ার (এএসপি) নুরে আলম এবং রাজশাহী র‌্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।
আ’লীগ দলীয় প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদ জানান, আহতরা তাঁর সমর্থক ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কর্মী। এ ছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা আকস্মিকভাবে হামলা করে মারপিট, অফিস ভাংচুরসহতিনটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করেছে।


অপর দিকে বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলী বলেন, আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনে আমার জয় নিশ্চিত জেনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা আমার লোকজনের উপর হামলা করেছে এবং আমার অফিস ভাংচুর করেছে। মোক্তার আলী আরো বলেন, সন্ধ্যার পরে প্রায় ৫ শতাধিক দলীয় নেতা-কর্মী নিয়ে আড়ানী বাজারের ঐতিহাসিক তাল তলায় এক পথ সভায় বক্তব্য রাখছিলেন রাজশাহীর কাঠাখালি পৌর সভার নব নির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলী। এ সময় রাস্তার উত্তর দিক থেকে আমার সমর্থকরা ৮-১০ টি মোটর সাইকেল নিয়ে গনসংযোগ করে তার কার্যালয়ে ফিরছিল। এসময় আকষ্মিক ভাবে তাদের দেখে পেছন থেকে ধর-ধর করে ইট নিক্ষেপ সহ ধাওয়া করে শাহীদের লোকজন। এতে করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ফের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। এতে করে রাস্তার ধারে বসা সবজি ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়। ভাংচুর হয় দুই দলের অফিস। ঘটনার এক পর্যায় ব্যাপক লোকবল লাঠি-সোটা নিয়ে পৌর ভবনের সামনে অবস্থান নেয় মুক্তার আলীর পক্ষে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাজারের দোকানপাট বন্ধ ছিল।
বাঘা থানা অফিসার ইন-চার্জ(ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসন সহ পুলিশ এবং র‌্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছেন। রাতে মুক্তার পক্ষের মিলন নামে এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বব ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে