চিকিৎসক ও নার্স না পাওয়ার ফলে চালু হচ্ছে না শাহ্ মখদুম বিমান বন্দর

0
31

পান্না, রাজশাহী ব্যুরো :  করোনার কারণে গত ২৬ মার্চ থেকেবন্ধ হয়ে আছে রাজশাহী শাহ্ মখদুম বিমান বন্দর। পরবর্তিতে চালু করার চেষ্টা হলেও চিকিৎসক ও নার্স না পাওয়ায়ার ফলে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে। অথচ একই সাথে বন্ধ হওয়া দেশের কয়েকটি বিমানবন্দরে এরই মধ্যে চালু হয়ে গেছে। বিমান উঠানামা শুরু হয়েছে। ডাক্তার ও নার্স এর জন্য লিখিত চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। তবে তাতেও এখনও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ চলতি সপ্তাহে রাজশাহী বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এয়ার ভাইস মার্শাল মো: মফিদুর রহমান। এদিকে সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে বেসরকারি বিমান সেবা প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এখনও প্রস্তুত নয় বিমান বন্দর। আর সিভিল সার্জন বলছে তারা এই সংকটকালে দিতে পারবেন না চাহিদা অনুযায়ি চিকিৎসক ও নার্স।

শনিবার বেবিচক চেয়ারম্যান একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, চলতি সাপ্তাহেই রাজশাহী বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেওয়া হবে। রাজশাহী সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আমরা সহযোগিতা পেয়েছি। তারা বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স দেবেন। দিনক্ষণ ঠিক না করলেও এ সপ্তাহে রাজশাহীতে ফ্লাইট চালু হবে।

তবে, চলতি সপ্তাহে বিমান চালুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন তথ্য পান নি রাজশাহী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এমনকি জানানো হয় নি বেসরকারি বিমান পরিচালনা সংস্থাগুলোকেও। এমবিবিএস পাস চিকিৎসক না থাকায় বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না। একজন চিকিৎসকের জন্য তারা সিভিল সার্জনের কাছেও আবেদন করেছেন।

রাজশাহী বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে হতে জানা যায়, বিমানবন্দরটিতে অনেক আগে থেকেই নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়েই চলত স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ। মূলত পার্শ্ববর্তী পবা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রর স্বাস্থ্য সহকারীকে দিয়ে নামকাওয়াস্তে এ কাজটি করানো হতো। করোনা সংক্রমণের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে বিমান চলাচল বন্ধ, কাজ নেই সেই চিকিৎসকেরও।

রাজশাহী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, এখনো আমরা বিমান চালু করতে পারিনি। আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। টিকিটও বিক্রি করছি। তবে সেগুলো বাতিল করতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমাদের ৫/৬ বার যাত্রা বাতিল করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের যাত্রার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছি। নেওয়া হয়েছে যাত্রীদের করোনা কালিন নিরাপত্তার ব্যবস্থাও। তবে বিমান চালুর জন্য এখনো বিমানবন্দর প্রস্তুত নয়। রাজশাহী এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, এখানে এখনো মেডিকেল টিম বসাতে পারেনি। আমরা দফায় দফায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তবে তারা এখনো প্রস্তুত হয়নি।রাজশাহী সিভিল এভিয়েশন ও শাহ্ মখদুম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

রাজশাহী শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরের ম্যানেজার সেতাউর রহমান বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। প্রতিদিনই আমাদের কর্মচারীরা এখানে আসছেন। তবে ঢাকা থেকে কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় এখনো বিমান আসেনি।

এছাড়া আমরা এখনো ডাক্তারও পায় নি। বিমান আসা না আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় ঢাকা থেকে। তবে শনিবার বেবিচক চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে যেহেতু বলেছেন চলতি সপ্তাহে ছাড়বে। তাহলে ছাড়তে পারে। তবে এখনও আমরা ডাক্তার ও বিমান চলার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত পায় নি।

এ বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, ‘আমরা রাজশাহী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ডাক্তারের চাহিদা সংক্রান্ত একটি আবেদন পেয়েছি। তবে আমাদের স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স দিতে বলা হয় নি। এছাড়াও করোনা কালের জন্য সকল চিকিৎসক ও নার্স নিয়মিত ডিউটি করছে। সেখান থেকে দেওয়া সম্ভব না।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে রাজশাহী বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। এর আগে এখানে প্রতিদিন ইউএস-বাংলার দুটি এবং বাংলাদেশ বিমান ও নভোএয়ারের একটি করে বিমান চলাচল করত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে