“করোনায় বিআরবি নিয়ে দুটি কথা”

0
13

ডেইলি রাজশাহী বার্তা ডেস্ক : গত ০৫.০৬.২০২০ তারিখে মোঃ সোহেল রানা কর্তৃক তার ফেসবুকে প্রদত্ত ষ্ট্যাটাস “চাকুরী যাচ্ছে ৪০০ জনের, প্রতিবাদ করায় চুরি মামলায় কারগারে যেতে হচ্ছে। ফ্যাক্ট করোনা ও বিআরবি”, এরপর গত ০৭.০৬.২০২০ তারিখ দৈনিক প্রতিজ্ঞা পত্রিকায় “আসছে প্রণোদনা শ্রমিকদের জামানতের টাকা মজিবর রহমানের ঘরে। বিআরবি-র শ্রমিকরা পাচ্ছে চোর পদবী” শিরোনামে প্রকাশিত খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। জেনে না জেনে, হুজুকে পড়ে, ঈর্ষানি¦ত হয়ে এসেছে নানাবিধ মন্তব্য – যা অত্যন্ত দুঃখজনক, আবার এসেছে অনেক পজিটিভ মন্তব্যও – যারা প্রকৃত বাস্তবতাকে অনুধাবন করতে পেরেছেন। উক্ত খবরটি ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থে সম্পূর্ণ ভুয়া, মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসুত। যে খবরে দেশের প্রথম সারির একটি প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। তাই এহেন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে দুটি কথা না বললে দায়বদ্ধতা থেকে যাবে সারাজীবন। তা থেকেই আজকের এই লেখা।

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস আজ মহামারী ! লকডাউন এবং অচলাবস্থার কারণে বহুমাত্রিক সংকটে বাংলাদেশের শিল্প-বানিজ্য ও অর্থনীতি, পোষাক শিল্পও ধ্বংসের মুখে। আগেই বেড়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খরচ। আর এবার গোদের উপর বিষফোঁড় লকডাউনের প্রভাব। কারখানায় উৎপাদন নেই, নেই ব্যবসায় গতি, বেঁচা-কেনায় মন্দা, শিল্প-কারখানায় স্থবিরতা। অতীব সত্য, বিগত চার দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিবাচক ইতিহাসে সর্বোচ্চ ধ্বংসের ধাক্কা এবছর।

করোনা পরিস্থিতিতে সব চাইতে বিপাকে সীমিত আয়ের কৃষক-শ্রমিক, মুটে-মজুর শ্রেণীর মানুষ। রাস্তায় বের হলেও পাচ্ছে না কাজ, জুটছে না তিন বেলা খাবার। শহরের ঘরবদ্ধ দিনমজুর মানুষগুলো ইচ্ছে করলেই যেতে পারছে না কাজের খোঁজে বাইরে, আর গ্রামের অভাবী মানুষটি ইচ্ছা করলেই আসতে পারছে না শহরে।

বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানীখাতেও এখন ধস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী কাজ করেন। যার মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান মধ্যপ্রাচ্যে। রেমিটেন্স প্রবাহ এখন নিম্ম সূচকে। অনেক বাংলাদেশী বিদেশের মাটিতে বেতন পাচ্ছেন না ঠিক মতো। অনেকে চাকুরীচ্যুত হচ্ছেন, অনেকে মজুরী হ্রাসের কবলে। এছাড়াও করোনাকে ঘিরে সারা বিশ্বে চলছে লোক ছাঁটাই। ফলে রেমিটেন্স প্রবাহ আরো অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন অর্থনীতির ক্রান্তিলগ্নে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠা কষ্টকর। এমতাবস্থায় দেশের অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান, কারখানার মালিক সরকারি সাধারণ ছুটিকালিন বেতন-ভাতা কেউ ৫০% আবার কেউ ৬০% পরিশোধ করেছেন। শতভাগ বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছেন এমন নজির খুবই কম। অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিক আবার ঈদ বোনাসও ঠিকমত দেননি।

আর এসব টানা-পোড়েনের মধ্যেও নজীর স্থাপন করেছে কুষ্টিয়ার বিআরবি গ্র“প। জানা গেছে, বি আর বি গ্র“প এদের সকল প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সকল শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাকে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি প্রদান করেছে এবং কর্মকান্ড বন্ধ রেখেও সকলকে শতভাগ বেতন পরিশোধ করেছে। লকডাউন বা সাধারণ ছুটির প্রায় তিন মাসে আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। তাছাড়াও পরিশোধ করেছে শতভাগ ঈদ বোনাসও। শুধু তাই নয়- সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে নিরাপত্তার স¦ার্থে কিছু নিরাপত্তা কর্মী, জরুরী দাপ্তরিক কাজে কিছু কর্মচারী ও কর্মকর্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য কিছু শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ডিউটি করেন। পরিবর্তে নিয়মিত বেতন ভাতাদি পরিশোধ ছাড়াও অতিরিক্ত কাজের জন্য তাদেরকে মাসিক বেতনের সমপরিমান হারে অতিরিক্ত কাজের মজুরী পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি ।

এতে করে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট বেতন-ভাতাদি বাবদ আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা এবং ঈদ বোনাস পরিশোধের পাশাপাশি আরও অতিরিক্ত প্রায় কোটি টাকা প্রদান করেছে অতিরিক্ত কাজের মজুরী হিসাবে। প্রণোদনার বিষয়ে বলতে হয়, যদি প্রতিষ্ঠানটি সরকার কর্তৃক প্রণোদনা পেত তাহলে অবশ্যই তা প্রদান করতো। উল্লেখ্য, এই করোনার কারণে দুঃখী ও আর্তমানবতার সেবায় প্রতিষ্ঠানটি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণ তহবিলেও সাধ্যমত আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন।
বলাবাহুল্য, বি আর বি গ্র“প সরকার ঘোষিত যে সাধারণ ছুটি (উক্ত সাধারণ ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি, উৎসবছুটি সহ বিভিন্ন ছুটি পড়েছে) তাদের শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাকে প্রদান করেছেন তা কিন্তু কোন দায়বদ্ধতা বা বাধ্যবাধকতা থেকে নয় – কেননা শিল্প কারখানার জন্য এ ছুটি প্রযোজ্য ছিল না। কেননা কারখানা আইন সম্পূর্ণ আলাদা। তাই লোকাল প্রশাসন থেকেও বি আর বি কর্তৃপক্ষকে কারখানা খোলার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু বি আর বি কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের জানমালের নিরাপত্তা ও স¦াস্থ্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি স্বীকার করেও মানবতার দায়বদ্ধতা থেকে উক্ত সাধারণ ছুটি প্রদান করেছেন।
একটা উদাহরণ আছে যে, চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী, তাই এত কিছুর পরও কিছু মানুষ বুঝে-শুনে ও অন্যের প্ররোচনায় পড়ে কুৎসা রটনা করছেন যে, ‘করোনা’র কারণে বিআরবি’র চারশত জনের চাকুরী যাচ্ছে’। আমরা কুষ্টিয়াবাসী সকলেই জানি বা খুব কাছ থেকে দেখছি – বিআরবি গ্র“প একটি বৃহৎ শিল্প সাম্রাজ্য। আজ বিসিক শিল্প নগরী সর্বদা মানুষের কোলাহলে মুখরিত তা শুধু বি আর বি গ্র“পের শিল্প প্রতিষ্ঠান সমুহের কারণেই। এখানে হাজার হাজার মানুষ চাকুরী করে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাহিরের জেলা থেকে কেহ কুষ্টিয়ায় এসে যদি বি আর বি না দেখে যায় তার যেন কুষ্টিয়া ভ্রমনই ব্যর্থ। তাই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষা সফরের প্রধান আকর্ষণ হিসাবে বিআরবি কে বেছে নেয়। এটা কুষ্টিয়াবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।

একটি শিল্প সাম্রাজ্য চালাতে গেলে যেমন থাকবে শিল্পের উন্নয়নে শ্রমিকদের প্রতি ভালবাসার ছোঁয়া, তেমনি প্রশাসনিক ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে থাকবে আইনের শাসন। তবেই না কোন প্রতিষ্ঠান উঠতে পারে উন্নতির চরম শিখরে। তাই কেউ অনিয়ম, চুরি, অসদাচরণ করলে প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে এটাই স্বাভাবিক। আর এরকমই ঘটনা – মোঃ সাহারিয়ার রেজা (৪৫), পিতা-খোন্দকার আশরাফ আলী, সাং-বালিয়াপাড়া, পোষ্ট-আলামপুর, থানা ও জেলা- কুষ্টিয়া বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডে রক্ষনাবেক্ষন বিভাগে কনষ্ট্রাকশন সেকশনের জুনিয়র ক্লার্ক হিসাবে কর্মরত থাকাবস্থায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া বিল প্রস্তুত করতঃ কোম্পানীর হিসাব বিভাগ হতে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল। বিষয়টি ০১.০৬.২০২০ তারিখে বি আর বি কর্তৃপক্ষের গোচরে আসলে উক্ত সাহারিয়ার রেজা প্রথমে একটি ভুয়া বিলের কথা স¦ীকার করে, পরবর্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আরও একটি ভুয়া বিলের কথা স্বীকার করে। তখন বি আর বি কর্তৃপক্ষ মোঃ সাহারিয়ার রেজাকে ০১.০৬.২০২০ তারিখ রাত্রে পুলিশে সোপর্দ করে এবং ০২/০৬/২০২০ ইং তারিখে কুষ্টিয়া মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ও ভুয়া বিল তৈরির মামলা দায়ের করে। উল্লেখ্য সাহারিয়ার রেজা সাংবাদিক কে এম শাহীন রেজার আপন ভাই হওয়ায় উক্ত বিষয়ে অসাধু স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল শাহীন রেজার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আত্মসাৎকারী মোঃ সাহারিয়ার রেজার অপরাধ ধামা চাপা দেওয়া ও মূল ঘটনাকে অন্য দিকে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য সৃজন করিয়া গত ০৫/০৬/২০২০ ইং তারিখে বিকেল ৫.৩৭ ঘটিকার সময় মোঃ সোহেল রানা তার ফেসবুকে “চাকরি যাচ্ছে ৪০০ জনের। প্রতিবাদ করায় চুরি মামলায় কারাগারে যেতে হচ্ছে। ফ্যাক্ট করোনা ও বি আর বি” শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেয়।

আবার উক্ত ফেসবুক ষ্ট্যাটাসের সুত্র ধরে মোঃ সাহারিয়ার রেজার ভাই সাংবাদিক শাহীন রেজা ০৭.০৬.২০২০ ইং তারিখের দৈনিক প্রতিজ্ঞা নামীয় কুষ্টিয়ার স্থানীয় একটি পেপারে প্রকাশিত “বি আর বি-র শ্রমিকরা পাচ্ছে চোর পদবী” শিরোনামের একটি খবরের স্ক্রীন শর্ট মোঃ সোহেল রানার ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে শেয়ার করে। উক্ত খবরে বি আর বি প্রতিষ্ঠান স¤পর্কে বিভিন্ন মিথ্যা, গুজব ও বানোয়াট তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এরপর গত ০৮.০৬.২০২০ তারিখে সময়ের আলো নামে একটি অন-লাইন পত্রিকায় মিথ্যা তথ্যের জের ধরে নানাবিধ কল্পকাহিনী দিয়ে একটি খবর প্রকাশ করা হয়।
এরূপ তথ্য প্রকাশ সম্পূর্ন শক্রতামূলক, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ জাতীয় মিথ্যা তথ্য প্রচার করায় বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড এর দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুন্ন সহ সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও সামাজিক মহলে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় যা কোম্পানীর ব্যবসায়িক অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের সামিল। তথ্য প্রযুক্তি আইন অনুযায়ী ইহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইহা স্পষ্ট যে আত্মসাৎকৃত মামলার আসামী মোঃ সাহারিয়ার রেজা সাংবাদিক শাহীন রেজার আপন ভাই হওয়ায় শাহীন রেজা অত্যন্ত সু-কৌশলে সোহেল রানার ফেসবুক পেজে এ জাতীয় স্ট্যাটাস প্রদানে প্ররোচনা দিয়েছে এবং পরবর্তিতে তিনি নিজেই দৈনিক পত্রিকার উদ্ধৃতিতে মিথ্যা ও বানোয়াট খবরের স্ক্রীন শট আপ-লোড করেছে।
কুচক্রি মহল সেখানেই থেমে নেই, এটাকে পুঁজি করে মুখরোচক বিভিন্ন গল্প বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ছে, অথচ এ সমস্ত লোকজনের কেউ না কেউ এই বি আর বি গ্র“পে চাকুরী করে জীবিকা নির্বাহ করছে – সত্যিই এরূপ ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক। আর বর্তমানে অনেক অর্থবিত্ত লোকের শিল্পে নিরুৎসাহিত হওয়া এটি একটি বড় কারণ। ঐ সমস্ত বিত্তবানদের মন্তব্য টাকা ব্যাংকে রেখে নিয়মিত ইণ্টারেস্ট তুলে খাবো, অযথা কেন ঘরের খেয়ে বোনের মোষ চড়াতে যাবে।

সম্মানিত পাঠককুল এবারে নিশ্চয় স্পষ্ট হয়েছে যে, বি আর বি তে করোনার প্রভাবে শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই হয়েছে এমন বক্তব্য নিছক মিথ্যা ছাড়া কিছু নয়। তবে হ্যাঁ, ২৮ জন শ্রমিককে তাদের কর্তব্যে অবহেলা, গাফিলতি, ইচ্ছেমাফিক চলা, অননুমোদিত ভাবে অনুপস্থিত থাকা ইত্যাদি কারণে চাকুরী থেকে বাদ দেয়া হয়েছে -তা করোনা প্রাদুর্ভারে অনেক আগে। আর এর পিছনে অবশ্যই যৌক্তিক কারণে রয়েছে। একটি উৎপাদনমুখি শিল্প প্রতিষ্ঠানে যদি শ্রমিকদের কো¤পানীর কাজের প্রতি দরদ না থাকে, মনোযোগী না হয়, ইচ্ছেকৃতভাবে উৎপাদন ব্যাহত করে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নসাধন করা খুবই কষ্টকর। আর এ সমস্ত শ্রমিক পরিবেশ নষ্ট করে এবং অন্যদেরকে প্রভাবিত করে। শোনা যায় উক্ত কর্মীগনকে ওভার টাইম করার জন্য কো¤পানী বলে। হ্যাঁ এরকম হয়েই থাকে – আর বি আর বি কর্তৃপক্ষ সঠিক নিয়মেই ওভার টাইমের পয়সাও পরিশোধ করে থাকে। এরপরও যদি কেহ অসদাচরণ করে, কাজে গাফিলতি করে তাহলে তো প্রতিষ্ঠানের স¦ার্থে অনেক সময় কিছু সিদ্ধান্ত নিতেই হয় – যা অপ্রিয় সত্য। জানা গেছে, তারপরও তাদেরকে পুনরায় নিয়োগ দেয়া যায় কি না সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা প্রতিষ্ঠানের ছিল এবং তাদের সাথে কথা বলাও হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বিষয়টি পিছিয়ে যায়। ইত্যবসরে উক্ত শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশ শ্রমিকই তাদের পুনঃনিয়োগের বিষয়টি ভুলে গিয়ে কিছু অসাধু চক্রের মাধ্যমে কো¤পানী স¤পর্কে নানা কুৎসা রটনা করে কোম্পানীর ভাব-মুর্তি ক্ষুন্ন করেছে।

আর চারশত জনের চাকুরী যাচ্ছে বা যাবে, তারা বেতন পায় নাই এরকম কথা সত্যিই হাস্যকর। গ্র“পের প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা বেতন পেয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তাদের লোকজন রয়েছে, কেউ যদি না পেয়ে থাকে, কোন ভুল হয়ে থাকে তাই সেটি এত ফলাও করে তুলে ধরার কিছু নেই। বি আর বি কর্তৃপক্ষ তাদের ছুটির নোটিশ সমুহে এই মর্মে ঘোষনা দেয় যে, শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাগণ যেন ছুটিকালীন সময়ে ঘরেই থাকেন, এই সময়ে বাইরের কাউকে যেন নিজ বাড়ীতে প্রবেশের অনুমতি না দেন, সরকারি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলেন ইত্যাদি – আর এটা দোষনীয় কিছু নয় বরং সচেতনতা। আর সরকারও এরকমই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। অথচ তারপরও কিছু কর্মচারী কর্মকর্তা নিয়ম না মেনে স্থান ত্যাগ করেছেন সেকারণে তাদের হয়তো ঐ সময়ের বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। আর এটা প্রশাসনিক ভীত ঠিক রাখতেই করতে হয়েছে। কিন্তু এটিকেই অনেকে সমালোচনায় নিয়েছেন – যা অনভিপ্রেত।

এটা সম্পূর্ণ সাংবাদিক শাহীন রেজা তার ভাইয়ের অপকর্মের কারণে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বি আর বি-র প্রতি তার রাগের বহিঃপ্রকাশ। আজ কয়েক দিন ধরেই দেখছি অনেক জ্ঞানী-গুণি সম্মাণিত ব্যক্তি বিভিন্ন মন্তব্য করে চলেছেন। তাই এতটুকু না বললেই বোধহয় কুষ্টিয়ার একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে যায়। তাই সবিনয়ে আবারো বলছি- বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে একটা কিছু ভাইরাল হলে তা মানুষের মুখে মুখে রটে যায়, তাই কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে তার সত্যতা কতটুকু তা জেনে বুঝে তবেই করা উচিৎ।

যখন করোনা আর লকডাউনে বহুমাত্রিক সংকটে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য, যখন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানীখাতে, বিদেশের মাটিতে একের পর এক ছাঁটাই হচ্ছে প্রবাসী শ্রমিক, সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তা তখন দেশের খ্যাতনামা একটি প্রতিষ্ঠান বি আর বি গ্র“প যারা কিনা দেশের সংকটপূর্ণ মুহুর্তেও শতভাগ বেতন-বোনাস পরিশোধ করে চলেছেন, অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে সকল শ্রমিক কর্মচারীদের নিয়ে নতুন উদ্যোমে কাজে মনোনিবেশ করেছেন, তখন এরকম একটি মুখরোচক গুজব রটনা কতটুকু যৌক্তিক তা পাঠক মহলে আমার প্রশ্ন। (সত্য খবর হতে সংগৃহিত)।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে