বিকল্প নেশার দিকে ছুটছে চারঘাটের মাদকসেবীরা

0
141

চারঘাট প্রতিনিধি:
রাজশাহীর চারঘাটের উঠতি বয়সি তরুনদের মধ্যে কাশির সিরাপ দিয়ে নেশা করা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, অরিজিনাল ফেনসিডিলের দূস্প্রাপ্যতা ও চড়া দামের কারনে উঠতি বয়সী কিশোর-যুবক শ্রেণী নেশার জন্য দেশীয় কাশির ঔষধের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে ।

সম্প্রতি একটি জরিপ থেকে জানা যায়, চারঘাটে প্রায় ৩৫ টি ঔষুধের দোকান রয়েছে যেগুলোতে কাশির সিরাপ বেশি বিক্রি হয়। এর মধ্যে তুলনা মূলক ভাবে বিক্রি কম হয় এমন ১০ টি ফার্মেসীর জরিপ অনুযায়ী তারা প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ টা পর্যন্ত কাশির সিরাপ বিক্রয় করে । সে অনুযায়ী প্রতিদিন ১ টি ফার্মেসীতে গড়ে ১০ টি করে সিরাপ বিক্রি হলে যা দাঁড়ায় ৩৫০ টি। সে অনুযায়ী মাসিক ৩৫ টি দোকানে বিক্রী হয় গড়ে ১০,৫০০ বোতল সিরাপ। যার বাজার মূল্য ৫,২৫,০০০ হাজার টাকার বেশী।এটা শুধু চারঘাট ও সরদহ বাজারের চিত্র।

বিশেষ করে ১৬ থেকে ২৮ বছর বয়সের মধ্যে এই সিরাপ খাওয়ার প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে ১৬ -২০ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রবনতা ভয়ংকর রকম বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় একজন ফার্মেসীর মালিক জানায়, ক্রেতাগন সবাই এলাকারই, কাউকে সিরাপ না দিলে বা প্রেসক্রিপশন চাইলে তারা যাতা ব্যবহার করে তেড়ে আসে।

তিনি আরো জানান, প্রচলিত কাশির সিরাপ গুলোর মধ্যে রয়েছে সিনামিন, কফলীড, এড্রীল, অফকফ, তুসকা, ডেসপ্রোডিন, ব্রডিল, ফেনারগেন, একফ, ডাইড্রিল। এর মধ্যে সিনামিনের বিক্রী সবচেয়ে বেশী। তবে অন্য সিরাপ গুলো থেকে সিনামিনের দাম কম হলেও বর্তমান সময়ে সিনামিন দুই থেকে তিনগুণ দামে বিক্রি হয়।

উপজেলায় নেশা গ্রস্থ কিশোর-যুবকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি ব্যাপক পাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে নেশার ধরনও। ইদানিং কালে দরিদ্র কিশোরদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে পেষ্টিং নামের আরেকটি নেশা। যাকে স্থানীয়রা বলে ড্যান্ডি । জানালেন উপজেলার একজন হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আমি ২ ডজন ছোট পেষ্টিং দোকানে তুলি, কিন্তু এখন মাত্র দুইটি আছে। আগে পেষ্টিং কিনতো স্থানীয় মুচি ও সাইকেল মেকারগন তাদের পেশাগত কারনে। কিন্তু ইদানিং উঠতি বয়সী ছেলেরা এটা কিনে নেশা করে শুনেছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, চারঘাটে মাদকের প্রতি যেভাবে যুব সমাজের দিন দিন ঝোক বাড়ছে তা এখনি বন্ধ না করতে পারলে অনেক মেধাবী তাদের উজ্জল ভবিষ্যত ছেড়ে যেমন অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে তেমনি অনেক পরিবারে নেমে আসবে আশান্তির ছায়া। প্রশাসন দিয়ে এর প্রভাব রোধ করার পাশাপাশি আমাদের উচিত এ ব্যাপারে অভিবাবকদের সচেতন করা ও কিশোর যুবক দের সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন,
আমরা ইতিমধ্যেই উপজেলার সকল ওষুধের দোকানীদের সতর্ক করেছি। প্রেসক্রিপশন ছাড়া এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ছাড়া কারও কাছে কাঁশির সিরাপ বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে।এরপরেও যদি কোনো ফার্মেসি নিয়ম অমান্য করে,তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে