বাঘায় জমির আইল নিয়ে বিরোধ ৯ দিন থেকে একঘরে একটি পরিবার

0
34

বাঘা(রাজশাহী)প্রতিনিধি :
রাজশাহীর বাঘায় জমির আইল নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারকে ৯ দিন যাবত একঘরে করে রাখা-সহ তার দোকানে মালামাল ক্রয়ে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছেন কতিপয় সমাজ প্রধান। উপজেলার বাউসা মাঝপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে অজিত কুমার প্রামানিকের সাথে সমাজ প্রধানদের দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে একঘরে করা হয়। এর ফলে অজিত কুমার মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সূত্রে জানা যায়, বাঘা উপজেলার বাউসা মাঝপাড়া গ্রামের অজিত কুমার প্রামানিকের সাথে সমাজ প্রধান রনজিত সরকার, গোউর সরকার, আনন্দ কুমার, অতুল প্রফেসার, রহিনী কান্ত প্রামানিক, জিতেন কুমার প্রামানিক ও নিরা বাবুর সাথে পরিত্যাক্ত মন্দিরের জমির আইল দিয়ে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দুই সপ্তাহ আগে দ্বন্দ্ব হয়। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে অজিত কুমার প্রামানিকের স্ত্রী মুক্তি রানিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন সমাজ প্রধানরা। আর এ গালের প্রতিবাদ করলে তাকে উল্টো নির্যাতন করেন তারা।
সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর সামাজিকভাবে শালিস করেন সমাজ প্রধানরা। ওই শালিশে প্রকাশ্যে জোড়হাত করে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় অজিত কুমারকে। কিন্তু শালিশে তিনি ক্ষমা না চাওয়ায় ৯ দিন থেকে তাঁকে একঘরে করে দিয়েছেন তার প্রতিপক্ষ প্রভাবশালীরা।
অজিত কুমার প্রমানিক বলেন, আমার ছোট একটি সবজির দোকান রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে সমাজের কেউ জিনিস ক্রয় করেনা। আমার দোকন থেকে সমাজের কেউ জিনিস ক্রয় করলে আমার মতো তাদেরও এক ঘরে করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। ফলে সমাজ প্রধানদের ভয়ে সমাজের কেউ আমার সাথে কথা বলছেন না এবং জিনিস মালামাল ক্রয় করছে না। এ নিয়ে আমি বড় চিন্তায় আছি।
অজিতের স্ত্রী মুক্তি রানি বলেন, কিছুদিন হলো আমার বাড়িতে একটি মুনুষা পূজার মন্দির ও রাধা কৃজ্ঞ মন্দির করেছি। তারপর থেকে সমাজের লোকজন আমাকে আজেবাজে কথা বলে এবং মাস দু’য়েক আগে আমাকে সমাজের প্রধানরা নির্যাতন করে পুকুরে ফেলে দেয়। এ ঘটনার দেড় মাস পরে পরিত্যাক্ত মন্দিরের জমির পাশে আমার জমি রয়েছে। এই জমির আইল দিয়ে মাটি কাটতে গেলে তারা আমাকে অকথ্যভাষায় গাল মন্দও নির্যাতন করে।
বাউসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অজিত কুমার একজন অসুস্থ মানুষ। তাকে
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সহযোগিতা করা হয়। বিষয়টি জেনে-শুনে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিব। #
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে এটি একটি দন্ডনীয় অবরাধ। অভিযোগ এলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। #

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here